রাজনীতি করা অপরাধ নয়: ৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার। সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্তদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন জানিয়েছেন, কেবল রাজনৈতিক আদর্শ নয়, বরং একাডেমিক দক্ষতা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

যোগ্যতা যাচাইয়ের কঠোর প্রক্রিয়া

রাজনৈতিক বিবেচনায় উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, “একজন লোকের রাজনীতি করা কি অপরাধ? এটি কি তাদের অযোগ্যতা? মোটেই না।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রত্যেকটি উপাচার্য নিয়োগের আগে তাদের গবেষণাপত্র (Citation), গুগল স্কলার প্রোফাইল, পিএইচডি, পোস্ট-ডক্টরেট এবং এমফিল ডিগ্রিসহ সামগ্রিক একাডেমিক পারফরম্যান্স নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির মাধ্যমে যারা শ্রেষ্ঠ পারফর্মার হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন, তাদেরই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তথ্য-প্রমাণ ও পারফরম্যান্সের গুরুত্ব

এহসানুল হক মিলন আরও জানান, সরকারের কাছে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগ্যতার সব নথিপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কথা উল্লেখ করেন। তাকে ‘হায়েস্ট পারফর্মার’ হিসেবে অভিহিত করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পছন্দ থাকতে পারে, যা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতাই ছিল সরকারের প্রধান মানদণ্ড।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতি করা বা না করা কোনো শিক্ষকের ওপর বাধ্যতামূলক করা হয়নি, তবে যোগ্য শিক্ষকদের তাদের প্রাপ্য সম্মান ও দায়িত্ব দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *