৩৯ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানালেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি গোলরক্ষক

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের জমকালো ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা গোলরক্ষক সের্হিও ‘চিকিতো’ রোমেরো। ৩৯ বছর বয়সে গ্লাভস জোড়া তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই তারকা। তবে ফুটবলকে একেবারে বিদায় জানাচ্ছেন না তিনি; মাঠের লড়াই শেষ করে এবার ডাগআউটে কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ক্রীড়া সাংবাদিক ফেদে ক্রিস্তোফানেল্লির দেওয়া তথ্যমতে, রোমেরো এরই মধ্যে তার নিজস্ব কোচিং প্যানেল প্রস্তুত করে ফেলেছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব শিগগিরই তাকে নতুন পরিচয়ে দেখা যাবে।

খেলোয়াড়ি জীবনের আক্ষেপ ও বিদায়

রোমেরো চেয়েছিলেন ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে আরও কিছুদিন মাঠের লড়াইয়ে থাকতে। এমনকি নিজের পুরোনো ঠিকানা রেসিং ক্লাবে ফাকুন্দো কাম্বেসেসের বদলি গোলরক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগটি আর হয়ে ওঠেনি। কোপা আর্জেন্টিনায় আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের হয়ে খেলা ম্যাচটিই তার পেশাদার ক্যারিয়ারের শেষ স্মৃতি হয়ে থাকল।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে অবিসংবাদিত রেকর্ড

জাতীয় দলের হয়ে রোমেরোর অবদান অনস্বীকার্য। আর্জেন্টিনার গোলপোস্ট সামলেছেন রেকর্ড ৯৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে, যা দেশের ফুটবল ইতিহাসে যেকোনো গোলরক্ষকের জন্য সর্বোচ্চ। বয়সভিত্তিক দলেও তিনি ছিলেন সমান সফল। ২০০৭ সালে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে আর্জেন্টিনার হয়ে স্বর্ণপদক জয়ের গৌরব অর্জন করেছিলেন তিনি।

২০১৪ বিশ্বকাপের সেই ‘নায়ক’

তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়টি লেখা হয়েছিল ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে। সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে দুটি দুর্দান্ত পেনাল্টি সেভ করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন রোমেরো। ওই দিন ম্যাচ শুরুর আগে সতীর্থ হাভিয়ের মাশচেরানোর বলা “আজ তুমি নায়ক হয়ে গেলে” কথাটি ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। যদিও ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে শিরোপা অধরাই থেকে যায় লিওনেল মেসিদের। এছাড়া ২০১৫ এবং ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকাতেও তিনি দলের প্রধান গোলরক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন, যেখানে দুবারই রানার্সআপ হয় আলবিসেলেস্তেরা।

ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে বর্ণিল পথচলা

রেসিং ক্লাবের মাধ্যমে পেশাদার ফুটবলে পা রাখা রোমেরো পরবর্তীতে ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে নিজের জাত চিনিয়েছেন। এজেড আলকমার, সাম্পদোরিয়া, মোনাকো এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো বিখ্যাত ক্লাবগুলোর হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন তিনি।

বিশেষ করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ব্যাকআপ গোলরক্ষক হিসেবে থাকলেও সুযোগ পেলেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। ২০১৭ সালের উয়েফা ইউরোপা লিগ জয়ে তার অনবদ্য ভূমিকা ছিল। ইউরোপে তার সর্বশেষ ঠিকানা ছিল ইতালিয়ান ক্লাব ভেনেজিয়া। এরপর দেশে ফিরেই ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন এই তারকা।

নতুন গন্তব্য: ডাগআউটে কোচ রোমেরো

ভবিষ্যতে নিজেকে একজন সফল কোচ হিসেবেই দেখতে চান রোমেরো। এর আগে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, কোচিং পেশার এই নতুন রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার জন্য তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত এবং এটি তার জীবনের একটি সুন্দর অধ্যায় হতে যাচ্ছে।