ইসলামি শরিয়তে ইতেকাফ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং দুনিয়াবি কোলাহল থেকে মুক্ত হয়ে একান্তভাবে ইবাদতে মগ্ন হওয়ার নামই ইতেকাফ। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকে ইতেকাফের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে এই ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য এর সঠিক নিয়ম ও নিষিদ্ধ কাজগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।
ইতেকাফের অফুরন্ত সওয়াব ও ফজিলত
ইতেকাফকারীর জন্য মহান আল্লাহ বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একদিন ইতেকাফ করবে, আল্লাহ তাআলা তার ও জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তিনটি পরিখার দূরত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। যার প্রতিটি পরিখার দূরত্ব আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের চেয়েও বেশি।” (তাবারানি)। এই হাদিস থেকেই বোঝা যায়, ইতেকাফ একজন মুমিনকে জাহান্নাম থেকে কতটা দূরে সরিয়ে দেয়।
ইতেকাফের প্রকারভেদ ও বিধান
রমজানের শেষ দশদিন ইতেকাফ করা ‘সুন্নতে মুআক্কাদা কেফায়া’। অর্থাৎ, কোনো একটি মহল্লার মসজিদ থেকে অন্তত একজন ব্যক্তি যদি ইতেকাফ পালন করেন, তবে পুরো মহল্লাবাসীর পক্ষ থেকে এটি আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু যদি কেউই আদায় না করেন, তবে মহল্লার সবাই গুনাহগার হবেন।
এছাড়া সারা বছরের যেকোনো সময় নফল ইতেকাফ করা যায়। তবে কেউ যদি ইতেকাফের মানত করেন, তবে তা পূরণ করা ওয়াজিব। উল্লেখ্য যে, ওয়াজিব ইতেকাফের ক্ষেত্রে রোজা রাখা বাধ্যতামূলক শর্ত।
যেসব কাজ ইতেকাফ অবস্থায় নিষিদ্ধ
ইতেকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো মসজিদের পবিত্র পরিবেশে নিজেকে আল্লাহর ইবাদতে সঁপে দেওয়া। তাই ইতেকাফকালীন কিছু সুনির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হয়, অন্যথায় ইতেকাফ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে:
১. স্ত্রী-সহবাস: ইতেকাফ অবস্থায় স্ত্রী-সহবাস করা সম্পূর্ণ হারাম। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, “তোমরা মসজিদে ইতেকাফ অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না।” (সুরা বাকারা: ১৮৭)। এই কাজ করলে ইতেকাফ সরাসরি বাতিল হয়ে যায়।
২. রোজা ভেঙে ফেলা: ইতেকাফ অবস্থায় রোজা থাকা অত্যন্ত জরুরি। অসুস্থতা বা অন্য যেকোনো কারণে যদি কেউ রোজা ভেঙে ফেলেন অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার বা বীর্যস্খলন ঘটান, তবে তার ইতেকাফও ভেঙে যাবে।
৩. প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ ত্যাগ: একান্ত প্রাকৃতিক প্রয়োজন (যেমন: প্রস্রাব-পায়খানা), অযু বা ফরজ গোসল ছাড়া অন্য কোনো কারণে মসজিদের সীমানা অতিক্রম করলে ইতেকাফ বাতিল হয়ে যায়। জানাজার নামাজ, অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া বা অপ্রয়োজনীয় কাজে বাইরে যাওয়ার অনুমতি ইতেকাফকারীর জন্য নেই।
৪. নারীদের বিশেষ অবস্থা: কোনো নারী ইতেকাফ করা অবস্থায় যদি তার ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড শুরু হয়, তবে তার ইতেকাফ ভেঙে যাবে। এক্ষেত্রে পবিত্র হওয়ার পর ইতেকাফ কাজা করে নিতে হয়।





